নিষেধাজ্ঞা

আকাশছোঁয়া দামে রাশিয়ায় বিক্রি হচ্ছে ইউরোপীয় বিলাসপণ্য

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ার বিলাসপণ্যের বাজারে বিকিকিনিতে বড় ধরনের ভাটা পড়েনি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ার বিলাসপণ্যের বাজারে বিকিকিনিতে বড় ধরনের ভাটা পড়েনি। এখন পশ্চিমা ফ্যাশন ব্র্যান্ডের বিস্তৃত সংগ্রহ পাওয়া যাচ্ছে রুশ বাজারে। এসব পণ্য ইউরোপের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দামে কিনছেন মস্কোর ক্রেতারা। খবর এফটি।

মস্কোর ঐতিহ্যবাহী ডিপার্টমেন্ট স্টোর সুমের অনলাইন ক্যাটালগে এখনো গুচি, বোটেগা ভেনেটা, ওয়াইএসএল, ভ্যালেন্তিনোসহ একাধিক ইউরোপীয় লাক্সারি ব্র্যান্ডের পণ্য তালিকা রয়েছে। যদিও ২০২২ সালে ইইউ ৩০০ ইউরোর বেশি পাইকারি মূল্যের বিলাসপণ্য রাশিয়ায় রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। বাস্তবে সে নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির বাজার থেকে এসব পণ্য হারিয়ে যায়নি।

তবে ইউরোপ ও মস্কোর বাজারে একই বিলাসপণ্যের দামের পার্থক্য স্পষ্ট। এফটির প্রায় ৬০০টি ইউরোপীয় বিলাসপণ্যের দাম তুলনা করেছে। এতে দেখা যায়, ইউরোপে যেসব পণ্যের গড় দাম ছিল ১ হাজার ২২৯ ইউরো, মস্কোয় একই ধরনের পণ্যের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬২৬ ইউরোয়।

ঘড়ির ক্ষেত্রে দামের ব্যবধান আরো বেশি। পশ্চিমা বাজারে যেসব ঘড়ির দাম প্রায় ১৭ হাজার ৭০০ ইউরো, মস্কোয় সেগুলোর দাম প্রায় ৩৩ হাজার ১০০ ইউরো। সবচেয়ে বড় মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে হ্যান্ডব্যাগে। ইউরোপে গড়ে ১ হাজার ৯০০ ইউরোর একটি ব্যাগ মস্কোয় বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার ২০০ ইউরোয়।

নিষেধাজ্ঞার আইনি কাঠামোয় একটি ফাঁক রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইইউর নিয়ম অনুযায়ী, ৩০০ ইউরোর বেশি মূল্যের বিলাসপণ্য সরাসরি রাশিয়ায় বিক্রি নিষিদ্ধ। তবে তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও চীনের মতো তৃতীয় দেশে পণ্য বিক্রি করা বৈধ। সেখান থেকে বিলাসসামগ্রী পরে রাশিয়ায় ঢুকছে। পুনরায় রফতানির পথ ধরেই রাশিয়ার বাজারে টিকে আছে পশ্চিমা ব্র্যান্ডগুলো।

ইতালীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড ডলচে অ্যান্ড গাব্বানার পণ্য নিষেধাজ্ঞা সীমার মধ্যে সরাসরি রাশিয়ায় পাঠানো না হলেও মস্কোর স্টোরগুলোয় এখনো পাওয়া যাচ্ছে। একইভাবে ব্রুনেলো কুচিনেল্লি জানিয়েছে, তারা ইইউ নির্ধারিত দামের সীমার মধ্যে থাকা পণ্যই সরবরাহ করে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির পর্যালোচনা করা রুশ শুল্ক নথি অনুযায়ী, উচ্চমূল্যের বিলাসপণ্য মূলত তুরস্কসহ অন্যান্য দেশের মাধ্যমে রাশিয়ায় প্রবেশ করছে।

ইউরোপীয় বিলাসপণ্য রাশিয়ায় পৌঁছানোর এ সরবরাহ ব্যবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে দেশটির বড় পরিবেশক মারকারি ফ্যাশন। কোম্পানিটি সরাসরি ইইউ থেকে তুলনামূলক কম দামের পণ্য কেনে। বেশি দামের পণ্য আসে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে বিকল্প পথে। ফলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকলেও রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বিলাসপণ্যের বাজারে বড় কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি।

২০২২ সালে ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সর্বাত্মক হামলা শুরু করে রাশিয়া। এর পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোর ওপর দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। একই সঙ্গে দেশটিতে সরে আসতে থাকে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো।

আরও